Prasongik Bangla

Prasongik Bangla News

নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এসথার দুফলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন, যোগ দিচ্ছেন জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে

বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ দম্পতি ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এসথার দুফলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) ছেড়ে আগামী বছর থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Zurich) যোগ দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা সেখানে একটি নতুন উন্নয়ন অর্থনীতি কেন্দ্র (Centre for Development Economics) গঠন করবেন।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন। দু’জনেরই পদ হবে লেমন ফাউন্ডেশনের (Lemann Foundation) অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত অধ্যাপক পদ। পাশাপাশি তাঁরা যৌথভাবে পরিচালনা করবেন লেমন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, এডুকেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি, যা বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।

🇺🇸 ফান্ডিং সংকট ও গবেষণায় ‘স্বাধীনতা হ্রাস’ বিতর্কের মাঝেই সিদ্ধান্ত

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে MIT ছাড়ার কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন প্রশাসনের গবেষণা তহবিলের কাটছাঁট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক চলছে।

সম্প্রতি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপর একাধিক শর্ত আরোপের প্রস্তাব দেয় — যেমন আন্তর্জাতিক ছাত্রসংখ্যায় কোটা, বিদেশি ছাত্রদের নজরদারি ও রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের দাবি। MIT কর্তৃপক্ষ ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এতে শিক্ষাঙ্গনের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।

এই প্রেক্ষিতেই নোবেলজয়ী দম্পতির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

🌍 জুরিখে নতুন সূচনা

দুফলো বলেন, “নতুন লেমন সেন্টারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই যা শিক্ষাক্ষেত্র, ছাত্র পরামর্শ এবং বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটাবে।”
জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল শেপম্যান বলেন, “বিশ্বের দুই প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।”

🏅 ২০১৯ সালের নোবেলজয়ীরা

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এসথার দুফলো ও মাইকেল ক্রেমার ২০১৯ সালে নোবেল অর্থনীতি পুরস্কার পান ‘দারিদ্র্য নিরসনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগ’-এর জন্য। তাঁদের গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দারিদ্র্য হ্রাসের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

📌 মূল তথ্য এক নজরে

  • নতুন গন্তব্য: জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়, সুইজারল্যান্ড
  • যোগদানের সময়: জুলাই ২০২৬
  • নতুন উদ্যোগ: লেমন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, এডুকেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি
  • পূর্ববর্তী পদ: ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT), যুক্তরাষ্ট্র
  • নোবেল পুরস্কার: ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version