পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের ঐতিহাসিক গণআন্দোলন
By AG –
New Delhi | July 21, 2026
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং সকলের জন্য ন্যায্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ছাত্র-যুব আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় শিক্ষা আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এই আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যাগুলির ফলে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর পরিশ্রম ও মেধা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মহামিছিল
রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্র, যুবক-যুবতী, গবেষক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। পরে সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বহু ছাত্রছাত্রী আহত হন। পুলিশও জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পরেও আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে ফিরে এসে ঘোষণা করেন, “স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি
এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জাতীয় স্তরের একাধিক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রক নৈতিক দায় এড়াতে পারে না। তাঁদের দাবি, দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে আন্দোলনে নতুন গতি
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেন। তাঁর এই অবস্থান আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কারের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দেশজুড়ে বাড়ছে সমর্থন
এই আন্দোলনের প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র সংগঠন, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিষয়টি কোনও একটি পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার সঙ্গে জড়িত।
আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলি
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
- স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা।
- প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।
- জাতীয় স্তরের সব পরীক্ষায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি ও সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা।
- আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
- শিক্ষা ও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।
ইতিহাসের মোড়ে ভারতের শিক্ষা আন্দোলন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়; বরং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট, স্বচ্ছতার অভাব এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রমবর্ধমান সমর্থন এবং তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র-যুব আন্দোলনে পরিণত করেছে। এখন নজর কেন্দ্র সরকারের দিকে—আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনা হবে কি না, সেটাই দেখার।
