ধর্মতলায় NEET আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা: বিক্ষোভে ইট-জুতো-বোতল ছোড়া, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি; শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব ছাত্রসমাজ

কলকাতার ধর্মতলায় NEET আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, ইট-জুতো-বোতল ছোড়ার অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব ছাত্র সংগঠন।

BY AG- | কলকাতা | ২৫ জুলাই ২০২৬

NEET-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরানো, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কলকাতার রাজপথে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ধর্মতলা চত্বর। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থকরা অংশ নেন।

মিছিল ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভের একাংশ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, মিছিলে “বহিরাগত” কিছু ব্যক্তি ঢুকে পড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের একাংশেরও অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। যদিও কলকাতা পুলিশের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে লাঠিচার্জ করা হয়নি; শুধুমাত্র সংঘর্ষ থামাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনী এগিয়ে যায়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব ছাত্র সংগঠন

এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব জানিয়েছে, NEET পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে দেশজুড়ে ছাত্রসমাজ ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এসএফআই এর রাজ্য সম্পাদক বলেন,
বাংলার ছাত্রসমাজ ধর্মতলাকে প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।”

‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সমর্থন, নজর কাড়ল তরুণ প্রজন্ম

এই আন্দোলনে সমাজমাধ্যমে পরিচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)’-র সমর্থকরাও যোগ দেন। তরুণদের হাতে দেখা যায় ব্যতিক্রমী পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। অনেকেই রাজনীতির প্রচলিত ভাষার পরিবর্তে ব্যঙ্গ, রম্য এবং সৃজনশীল বার্তার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। কেউ সুপারহিরোর মুখোশ পরে, কেউ আবার বিভিন্ন স্লোগান ও শিল্পসম্মত পোস্টার নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের কড়া পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাহত যান চলাচল

বিকেল থেকে ধর্মতলা, ডোরিনা ক্রসিং এবং সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারীদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ রাস্তা খুলে দেওয়া হলেও স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরতে কিছুটা সময় লাগে।

সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ

বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি

  • NEET-সহ সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  • প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত।
  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার জবাবদিহি ও সংস্কার।
  • শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করা।

Leave a Comment

Exit mobile version